‘আধার কার্ড গ্রহণ না করলে জানাবেন, আমরা তো আছিই!’ এসআইআর মামলায় বললো সুপ্রিম কোর্ট!
বাংলার জনরব ডেস্ক : এসআইআর মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। যে ৩ লক্ষ বিহারের ভোটার নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন, তাঁদের ক্ষেত্রেও আধার গ্রহণ করুক সর্বোচ্চ আদালত— আবেদনকারীদের সেই আবেদনে সাড়া দিল না সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ”আমরা এ নিয়ে আগেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছি। যদি নির্বাচন কমিশন এই তিন লক্ষ বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে আধার গ্রহণ না করে, তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা তো আছিই।”

সোমবার বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের কাছে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বরের পরও আবেদন করতে পারবেন ভোটাররা। তাঁদের নাম ১ অক্টোবরের তালিকায় না থাকলেও, নির্বাচনের নমিনেশনের প্রথম দিন পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের নথি যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকায় সেটা প্রকাশ করা হবে।
এদিন আবেদনকারীদের তরফে অভিযোগ করা হয়, নাম যুক্ত করার জন্য ফর্ম-৬-এ আবেদন করতে হচ্ছে। যার ফলে পুরনো ভোটাররাও নতুন ভোটার হিসেবে নাম তুলে ফেলছেন। ২২ অগাস্টের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পর তাই ১৫ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত হওয়ার আবেদন জমা পড়েছে। আদতে তাঁদের বেশিরভাগই পুরনো ভোটার লিস্টে বাদ যাওয়া ভোটার।
এই দাবি অবশ্য মানেনি নির্বাচন কমিশন। তাঁদের দাবি ২.৭ লক্ষ নাম জমা পড়েছে স্রেফ বাদ দেওয়ার জন্য আর নথিভুক্তকরণের জন্য ৩৩ হাজারের কিছু বেশি নাম দেওয়া হয়েছে তাঁদের কাছে।
এই অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালেতর নির্দেশ— স্টেট লিগাল এইডস ফোরামের চেয়ারম্যান সব জেলায় প্যারালিগাল ভলান্টিয়ার নিয়োগ করবেন ভোটার এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে নাম অন্তর্ভুক্তি/বাদ দেওয়ার আবেদন করার জন্য। এবং এই প্যারা লিগালরা একটি গোপন রিপোর্ট জমা দেবেন জেলার লিগাল এইড চেয়ারম্যানকে। সেই রিপোর্ট একত্রিত করবে রাজ্যের সিগাল এইড সেল।
অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশন বা রাজনৈতিক দল— কারও দাবিই চোখ বন্ধ করে না মেনে নিয়ে এবার বিহারে নিজের চোখ আর কান মোতায়েন করল সর্বোচ্চ আদালত। সব রাজনৈতিক দলকে তাদের মতামত জানাতে বলা হয়েছে আদালতের তরফে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ সেপ্টেম্বর।

